ae86d2baa0b4e9130730225ecb247b4d-salman-khanবলিউডের অভিনেতা সালমান খানের আজ ৫০তম জন্মদিন। এই তারকা অভিনেতা এখন পর্যন্ত অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন। সেই ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবির সাফল্য দিয়ে যে অভিনেতার পথ চলার শুরু হয়েছিল; ২০১৫ সালে তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবিতেও সে সাফল্য অব্যাহত আছে।

তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে রাজত্ব করছেন এই খান। পর্দায় এই অভিনেতার অননুকরণীয় ভঙ্গিতে দেওয়া অসংখ্য ডায়ালগ আজও দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবি থেকে শুরু সাম্প্রতিক ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবির বাছাই কিছু জনপ্রিয় ডায়ালগ নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।

১৯৮৯ সালের ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে সালমানের সেই ‘দোস্তি কা উশুল হ্যায় ম্যাডাম: নো স্যরি নো থ্যাঙ্ক ইউ’— ডায়ালগটি একসময় সবার মুখে মুখে ফিরত। এ ছবিতেই সালমানের আরেকটি ডায়ালগ খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেটি হচ্ছে— ‘বাবুজি ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’।

১৯৯১ সালে মুক্তি পেয়েছিল সালমান খান অভিনীত ছবি ‘সাজন’। এ ছবিতে আরও ছিলেন সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিত। ‘সাজন’ ছবিতে ‘আহাত সে কয়ি আয়ে তো লাগতা হ্যায় কি তুম হো, সায়া সা লেহরায়ে তো লাগতা হ্যায় কি তুম হো- সাজন’ এই ডায়ালগটিও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল সেসময়।

ঘোষণা আসুক আর না আসুক আজ ৫০!

১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় সালমান খান-মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ছবি ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’। এ ছবিতেই প্রথম ‘প্রেম’ হিসেবে আবির্ভূত হন সালমান। এ ছবিতে মাধুরীর চরিত্রটির নাম ছিল ‘নিশা’। সালমানের এ ছবির ‘নিশাজি, আগার শাদি মে, হাসি মাজাক মে, হামসে কয়ি ভুল হুয়ি হো, তো মুঝসে মাফ কর দিজিয়ে গা’ কিংবা ‘আপ ভি কামাল করতি হ্যায় নিশাজি…’, অথবা ‘যব হাম আপসে কুছ পুছনা চাহে তো হাম…আব হাম আপসে কুছ পুছে…হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সেসময় তরুণদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
১৯৯৪ সালেই মুক্তি পেয়েছিল ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ ছবিটি। এ ছবিতে অমর আর প্রেমের মধ্যে জ্যাকেট নিয়ে মজার এক কথোপকথন আছে। যেখানে আমির খানকে সালমান খান (প্রেম) প্রশ্ন করেন, জ্যাকেটটা কোথা থেকে কিনেছ? আমিরের উত্তর ছিল, ‘নিউ ইয়র্ক থেকে’। সালমান এরপর বলেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমেরিকা থেকে’ (আচ্ছা মুঝে লাগা আমেরিকা সে হ্যায়)। আবার, এ ছবির আরেকটি ডায়ালগও খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

সেটিও জ্যাকেট নিয়েই। ডায়ালগটি হচ্ছে-‘তুমিই পর আর আমি পরি…সার্কাসের বুড়ো বাঁদরের মতো দেখায় (সার্কাসকা রিটায়ার্ড বান্দার লাগতা হ্যায়)।’ এ ছাড়াও, এ ছবির ‘গোগো জি, আপকা ঘাঘরা’, ‘আওয়ার ফেভারিট ইজ উইমা’ও তুমুল হাসি আর আনন্দ জুগিয়েছে এ ছবির দর্শকদের।

১৯৯৫ সালের ‘করণ অর্জুন’ ছবির মাধ্যমে একসঙ্গে সালমান খান ও শাহরুখ খান বড়পর্দায় আসেন। এ ছবির শাহরুখ খানকে সালমানের বলা ‘ভাগ অর্জুন ভাগ’ ডায়ালগটি কিংবা ১৯৯৮ সালের ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’ ছবিতে সালমানের কণ্ঠে ‘বড়ে ভাইয়া’ ডায়ালগটি অনেকেই নকল করত সেসময়। এ বছরই মুক্তি পেয়েছিল সালমান খান অভিনীত ‘বন্ধন’ ছবিটি। এ ছবিতে সালমান খানের দুলাভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জ্যাকি শ্রফ।

সালমানের ডায়ালগ— ‘জো জিজাজি কহেঙ্গে আই করুঙ্গা’ যেমন আলাভোলা শ্যালকের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছিল; তেমনি ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবিতে ঐশ্বরিয়া রাইকে বলা সালমানের ‘আগার তুম মুঝে ইউহি দেখতি রাহি তো পেয়ার হো যায়েগা’ ডায়ালগটিও এ অভিনেতার অসাধারণ রোমান্টিক অভিব্যক্তির কারণে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল।

‘সালাম-ই-ইশ্‌ক’ ছবিতেও এই অভিনেতার একটি অসাধারণ ডায়ালগ ছিল। ২০০৭ সালের এই ছবিতে সালমান খান একটি দৃশ্যে বলেছিলেন, ‘যা কিছুই করো সীমার মধ্যে করো কিন্তু প্রেম করো সীমাকে অনেক ছাড়িয়ে (হার চিজ করো লিমিট কে আন্দার, মাগার পেয়ার লিমিট কে বহুত বাহার।’

২০১৫ সালের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিটি দেশে ও বিদেশে সুপারহিট ব্যবসাসফল ছবি। এ ছবিতে সালমান খান একজন আলাভোলা বজরঙ্গি ভক্ত ভারতীয়। যিনি সীমান্ত ডিঙিয়ে পাকিস্তানের হারিয়ে যাওয়া এক ছোট্ট বোবা মেয়েকে শত বাধা উপেক্ষা করে তার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে চান। এ ছবিতে অনেক চমৎকার সব ডায়ালগ আছে সালমান খানের। এমনই একটি ডায়ালগ হচ্ছে— ‘হাম বজরঙ্গবলি কে ভক্ত হ্যায়… কয়ি ভি কাম চোরি ছিপ্পে নাহি কারতে (আমি বজরঙ্গবলির ভক্ত, কোনো কাজই লুকিয়ে চুরিয়ে করি না)।’ এ ছবির আরেকটি ডায়ালগ, ‘বজরঙ্গবলি কি কি সব করিয়ে নিচ্ছ, প্রথমে মসজিদে শুতে দিলে এখন বোরকা পরিয়ে নিচ্ছ’ (বজরঙ্গবলি, কেয়া কেয়া কারওয়া রাহে হো… মসজিদ মে সুলা দিয়া, আব বুরখা ভি পেহনা দিয়া)।’

২০১৫ সালের সর্বশেষ যে ছবিটি এখন আলোচনায় সে ছবির নাম— ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’। এ ছবিতে ‘প্রেম’ হিসেবে সালমান ফিরেছেন বহু বছর পর। ছবির একটি দৃশ্যে সালমান খান যখন বলেন, ‘সব পরিবারেই সমস্যা আছে, কিন্তু সে খুব সৌভাগ্যবান… যার পরিবার আছে। (‘হার ফ্যামিলি মে প্রবলেম হ্যায়… পার উও খুশনসীব হ্যায়.. জিন কি ফ্যামিলি হোতি হ্যায় …)’ তখন দর্শকের আসনে বসে থাকা মানুষটি যে এই অভিনেতাকে খুব কাছের একজন মানুষ ভাবেন তা বলাই বাহুল্য। আর কে না জানে মানুষের হৃদয়ের সিংহাসনে সালমান খান এমন করেই পৌঁছে গেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া। এনডিটিভি।

SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY