pl11204922-custom_lightweight_knit_denim_fabric_by_the_yard_home_textile_fabricsমহাসড়কের পাশের মূল ফটক থেকে বিশাল কারখানা ভবনটি একটু ভেতরে। কারখানার ফটক দিয়ে ঢুকতেই দেখা গেল ভেতরে সারি সারি আধুনিক প্রযুক্তির পাওয়ার লুম বা বৈদ্যুতিক তাঁত। গুনে গুনে ১২০টি। মানুষের সাহায্য ছাড়াই দ্রুতগতির তাঁতগুলো বুনছে ডেনিম কাপড়। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে স্কয়ার গ্রুপের স্কয়ার ডেনিম কারখানাটিতে এখন মাসে উৎপাদন হচ্ছে ১২ লাখ গজ বিভিন্ন ধরনের ডেনিম কাপড়। আসছে বছর সংখ্যাটি হবে ২৫ লাখ গজ।
বর্তমানে এইচঅ্যান্ডএম, নেক্সট, সিঅ্যান্ডএ, স্পিরিটসহ বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডেনিম কাপড় প্রস্তুত
করছে স্কয়ার ডেনিম। মূলত বিদেশি ক্রেতারা প্রথমে ডেনিম কাপড় পছন্দ করে দেয়। পরে সেই কাপড় বাংলাদেশি পোশাক কারখানায়
জিনস প্যান্ট, জ্যাকেট ইত্যাদি তৈরি হয়ে রপ্তানি হয় বিভিন্ন দেশে।
কিছু ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্য আছে ২৯৪ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই স্কয়ার ডেনিম কারখানার। শ্রমিকদের কাজের সুবিধা ও পণ্যের গুণমান বজায় রাখতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩ লাখ ৩৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের মূল কারখানা ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে কারখানার অধিকাংশ বিভাগে সারাক্ষণই ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৈদ্যুতিক তারের সংযোগের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সর্বশেষ প্রযুক্তির বাসবার ট্রাংকিং সিস্টেম। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত অস্ট্রেলিয়ার এই প্রযুক্তি অগ্নি দুর্ঘটনার সম্ভাবনা একেবারের কমিয়ে আনে।
এ ছাড়া মূল কারখানা ভবনের পেছনে ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর তৈরি করা হয়েছে বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (ইটিপি)। এতে বর্জ্য পরিশোধনে রাসায়নিকের পরিবর্তে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হচ্ছে। ইটিপিতে পরিশোধিত পানি ভবিষ্যতে শ্রমিক ও কর্মকর্তার ডরমিটরির শৌচাগারে ব্যবহৃত হবে। কারখানার বিশাল ছাদে পড়া বৃষ্টির পানি নিচের ট্যাংকে জমিয়ে কাজে লাগানো হয়। এ ছাড়া কারখানা চত্বরেই ৭০ শতাংশ শ্রমিকের জন্য আছে বিনা মূল্যের আবাসনব্যবস্থা। এখন পর্যন্ত কারখানাটিতে স্কয়ার বিনিয়োগ করেছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
২০ আগস্ট বিকেলে আমন্ত্রিত কয়েকজন সাংবাদিককে পুরো কারখানাটি প্রায় তিন ঘণ্টা ঘুরিয়ে দেখান স্কয়ার ডেনিমের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সাঈদ আহমাদ চৌধুরী ও ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) ইফতেখার সোয়েব। তাঁরা জানান, স্কয়ার টেক্সটাইল আগে থেকে ডেনিম কাপড়ের সুতা তৈরি করত। সেই সুতার মূল্য সংযোজন বাড়াতেই ২০১৩ সালে ডেনিম কাপড় উৎপাদনের কারখানাটি নির্মাণ শুরু হয়। গত বছরের জুলাইয়ে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এখানে কাজ করেন ৯৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারী। তার মধ্যে ৩০ শতাংশ হচ্ছে স্থানীয়।
জানতে চাইলে সাঈদ আহমাদ চৌধুরী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী একসঙ্গে অনেক জমি ও গ্যাসের সংযোগ পাওয়ার কারণেই হবিগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মূল কারখানার ভেতরে আরও পাওয়ার লুম বসবে। তাতে আগামী বছরই মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ২৫ লাখ গজ। এখানেই ভবিষ্যতে ১৫ লাখ গজ (প্রতি মাসে) ডেনিম কাপড় উৎপাদন সক্ষমতার আরেকটি কারখানা ছাড়াও ডেনিমের সুতা তৈরির একটি কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি।
স্কয়ার ডেনিম কর্তৃপক্ষ কাপড়ের ফিনিশিংয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য বিশাল আকৃতির যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়েই সাঈদ আহমাদ চৌধুরী বললেন, ‘উচ্চমূল্যের কাপড় তৈরির জন্যই ফিনিশিংয়ে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য কারখানা যেখানে আড়াই মার্কিন ডলার মূল্যের (প্রতি গজ) কাপড় করছে, আমরা সেখানে করছি ৩ ডলারের কাপড়। সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ ডলারের ডেনিম কাপড় হচ্ছে।’ তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানি আয় বাড়াতে হলে উচ্চমূল্যের পণ্য প্রস্তুত করতে হবে। সেই পথেই হাঁটবে স্কয়ার। সে জন্য ময়মনসিংহের ভালুকায় ডেনিম পোশাক তৈরির কারখানা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরে চালু হবে।
জানতে চাইলে স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী গত শনিবার বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ডেনিমপোশাকের বাজার খুবই সম্ভাবনাময়। দ্রুতই বাজারটি বড় হচ্ছে। অন্যদিকে নানা কারণে বিভিন্ন দেশ ডেনিম কাপড় উৎপাদন থেকে সরে আসছে। সে জন্য বাংলাদেশের ভালো সুযোগ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে যাব। কারণ কম মূল্যের পোশাক উৎপাদনের ব্যবসা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয় না।’

SOURCEProthom-Alo
SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY