6128d15278d4edb34357dd26475119d3-2

হাত স্থির করে ধরে রাখতে বললেও পারেন না। স্পষ্ট দেখা যায় হাত কাঁপছে। কারও কারও মাথা, মুখ কিংবা পা-ও কাঁপতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাতেই সমস্যাটা দেখা যায়। একদম অনিচ্ছাকৃত এ সমস্যাকে চিকিৎসকেরা ইংরেজিতে বলেন ‘ট্রেমর’, যার অর্থ ‘কম্পন’।

ট্রেমরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এত দিন ওষুধ প্রয়োগ, নয়তো মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারই ছিল এর সমাধান। তবে লন্ডনের সেন্ট মেরি’স হাসপাতালের একদল চিকিৎসক দাবি করছেন, মস্তিষ্কের একদম গভীরে শব্দতরঙ্গ পাঠিয়ে ট্রেমর রোগীকে সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ারের সেলউইন লুকাস (৫২) নামের ওই ব্যক্তি চিকিৎসার পর বলেছেন, এখন তিনি স্থিরভাবে তাঁর ডান হাত ধরে রাখতে পারেন।
কোনো রকম শল্যচিকিৎসা ছাড়াই ওই চিকিৎসক দল ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এমআরই) নিয়ন্ত্রিত উচ্চ-তরঙ্গের শব্দ বা আলট্রাসাউন্ড পাঠিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কে থাকা ট্রেমরের জন্য দায়ী টিস্যু ধ্বংস করেছেন। এই টিস্যু মাংসপেশিতে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠাতে মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে।
চিকিৎসক দলটির সদস্য এবং লন্ডনভিত্তিক ইমপেরিয়াল কলেজ হেলথ কেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট পিটার বেইন বলেন, মস্তিষ্কের আলট্রাসাউন্ড চিকিৎসা শুধু ট্রেমরই না, পারকিনসনস রোগের মতো অনিচ্ছাকৃত কম্পনজনিত অন্যান্য সমস্যায়ও ফলপ্রসূ হতে পারে।
একই প্রতিষ্ঠানের কনসালট্যান্ট রেডিওলজিস্ট অধ্যাপক ফ্লাদিস্লফ গেদরইচের মতে, নতুন এ পদ্ধতি চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। কারণ অনিচ্ছাকৃত কম্পনজনিত সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসা ছাড়াই রোগীকে সারিয়ে তোলা যাবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষ্যমতে, মস্তিষ্কের গভীরে থ্যালামাস অংশে ত্রুটি দেখা দিলে স্নায়ুতন্ত্রে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়, তারই ফল ট্রেমর। সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সে প্রতি ২৫ জনে একজন এ সমস্যায় আক্রান্ত হন।

SOURCEprothom-alo
SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY