e8b174c18d55ddc259ea4469964f9250-7

রাশিয়ার একটি সামরিক বিমান গতকাল রোববার কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে সেনাসদস্য, সাংবাদিক, শিল্পীসহ ৯২ জন আরোহী ছিলেন।

 রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, টুপোলেভ-১৫৪ উড়োজাহাজটি রাশিয়ার সোচি থেকে সিরিয়ার লাতাকিয়ার পথে উড়াল দেওয়ার দুই মিনিট পরই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সরকার ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরোহীদের কারও বেঁচে থাকার কোনো চিহ্ন মেলেনি।

সাগরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ও বেশ কয়েকটি মৃতদেহ পাওয়া গেলেও কাউকে জীবিত অবস্থায় মেলেনি। উড়োজাহাজটিতে আটজন সেনাসদস্য, নয়জন সংবাদকর্মী, দুজন সরকারি কর্মী, বিমানের আটজন ক্রু সদস্য এবং আলেক্সান্দ্রভ সামরিক সংগীত দলের ৬৪ জন সদস্য ছিলেন। তাঁরা সিরিয়ার লাতাকিয়ায় রুশ ঘাঁটিতে নববর্ষের অনুষ্ঠানে সেনাদের মনোরঞ্জনের জন্য সংগীত পরিবেশন করতে যাচ্ছিলেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ দুর্ঘটনার জন্য আজ সোমবার জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

cf5361599314bf212ff44a886cbdd9a2-8

রুশ বিমানটি রাজধানী মস্কো থেকে যাত্রা করেছিল। জ্বালানি নিতে এটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সোচির আদলার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে গতকাল স্থানীয় সময় ভোরে লাতাকিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, কৃষ্ণসাগরের সোচি উপকূল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ৫০ থেকে ৭০ মিটার গভীরে এর ধ্বংসাবশেষ মিলেছে।

রুশ গণমাধ্যমের প্রচার করা একটি অডিও রেকর্ডে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীদের শেষ কথাবার্তা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তা শুনে কোনো সমস্যার ইঙ্গিত মেলেনি। দুর্ঘটনাস্থলে বিমান চলাচলের পরিবেশ অনুকূলেই ছিল। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেঙ্কোভ বলেন, গত সেপ্টেম্বরে বিমানটি সর্বশেষ সারানো হয়েছিল। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরেও এটি মেরামত করা হয়। দুর্ঘটনার সময় চালনার দায়িত্বে ছিলেন একজন ‘অভিজ্ঞ’ পাইলট।

সরকার ওই বিমানের আরোহীদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দুর্ঘটনার তদন্ত করতে প্রেসিডেন্ট পুতিন একটি রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং হতাহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম এবং মস্কোয় মার্কিন দূতাবাস শোক প্রকাশ করেছে।

বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সরকারও কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে লাতাকিয়ার ওই রুশ বিমানঘাঁটি থেকেই সিরিয়ায় বিমান হামলা চালানো হয়। বিধ্বস্ত সামরিক বিমানটিও সম্ভবত সে কাজে লাগানো হতো। সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে সাহায্য করতে দেশটির বিদ্রোহীদের ওপর রাশিয়া বিমান হামলা চালাচ্ছে। ওই বিদ্রোহীরা সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করতে চায়।

SOURCEprothom-alo
SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY