image-13547

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রতিযোগী দেশগুলোর পাশাপাশি চলতে হলে তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশকে অবশ্যই মূল্য সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আর এটা অর্জন করাই ২০১৭ সালে পোশাক শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানায়, ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় পোশাক শিল্পের কয়েকজন ক্রেতা নিহত হন। এই খবর পুরো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতারা বাংলাদেশের আসার বিষয়ে অনীহা দেখায়।
কিছু সময়ের জন্য ইমেজ সঙ্কটে পড়তে হয় এই শিল্পকে। ইমেজ সঙ্কট কাটিয়ে উঠে মূল্য নিয়ে বরাবরের মতো সমস্যায় পড়েন মালিকপক্ষ। ক্রেতাদের সব শর্ত মানার পরও মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে মূল্য বাড়াচ্ছেন না ক্রেতারা। ২০১৭ সালে এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছে মূল্য সক্ষমতাই বড় চ্যালেঞ্জ।
২০১৭ সালে মূল্য সক্ষমতাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে মন্তব্য দেশের পোশাকশিল্পের প্রথম সারির উদ্যোক্তা বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী। তার ভাষায়, মূল্য সক্ষমতাই ২০১৭ সালে আমাদের দেশের পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় পোশাক শিল্পের বেশ কয়েক জন বিদেশি ক্রেতা নিহত হন। তখন আমাদের একটা বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে।

garment_2
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে তেমন কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকায় উৎপাদন কাজ এগিয়েছে ভালো। তাছাড়া একর্ড, অ্যালায়েন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রায় তিন হাজার ৭০০ কারখানায় নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে যথার্থভাবে। কিন্তু তারপরও ক্রেতারা মূল্য বাড়াতে রাজি নয়। আমাদের খরচ বাড়লেও মূল্য না বাড়ায় নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। মূল্য সক্ষমতা অর্জন করতে সরকারের নীতি সহায়তা পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিজিএমইএর এই সাবেক সভাপতি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মূল্য সক্ষমতার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে নজর দিতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাসির। তার ভাষায়, মূল্য সক্ষমতা অর্জন না করতে পারলে ২০১৭ সালে অনেক উদ্যোক্তাকেই বাজার থেকে সরে যেতে হবে। আর এই মূল্য সক্ষমতায় অর্জন করতে হলে অন্যান্য সব দিকের পাশাপাশি নজর দিতে হবে উৎপাদনশীলতার ওপর। আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের উৎপাদনশীলতার হার যখন ৫৫ শতাংশ, তখন বাংলাদেশের হার মাত্র ৪০ শতাংশ। একর্ড, অ্যালায়েন্সের শর্ত অনুযায়ী কারখানা নিরাপদ করা হচ্ছে, গ্রিন কারখানা তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু তারা মূল্য বাড়াচ্ছেন না। মূল্য বাড়ানোর কথা বললেই তারা মুক্তবাজার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে অন্য দেশের দিকে চলে যেতে চান।
বিজিএমইএ সূত্র মতে, বাংলাদেশের রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আয় হয় পোশাক শিল্প থেকে। ২০১৫ সালে পোশাক শিল্পের রফতানি আয় হয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। দেশের কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখছে পোশাক শিল্পে। বাংলাদেশের বর্তমানে প্রায় ৪৪ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক রয়েছেন। গার্মেন্টস শিল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প। এই ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পে কাজ করছেন প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক। এই এক পোশাকশিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা শিল্প।

SOURCEbbarta24.net
SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY