garments-bd-2-600x321

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প সুদূরপ্রসারি অবদান রেখে চলেছে। ইপিবি এভং বিজিএমই-এর গবেষণা সেলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত তিন অর্থ বছর ধরে প্রতিবছর নতুন বাজেটের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নতুন বাজারের সম্মিলিত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এর হার ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পুরনো এবং নতুন সব বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন বাজারের রপ্তানি বেশ ভালো। সমাপ্ত অর্থ বছরে নতুন বাজার থেকে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এসব বাজারে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। জানা গেছে, ২০০৯ সালে বিশ্ব মন্দায় প্রধান প্রধান বাজারে রপ্তানি কমে যাবার সম্ভাবনায় ছোট ছোট নতুন বাজারের পক্ষ থেকে ও প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে নতুন বাজার থেকে ভালো সারা পাওয়া যাচ্ছে। আরো জানা গেছে, নতুন বাজার সম্প্রসারণে ইপিবির ভূমিকাই মুখ্য। বাজার সম্প্রসারণে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে। নতুন বাজার হিসেবে তুরস্ক, অষ্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া, রাশিয়া, ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগাল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ২৫টি দেশকে নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করেন রপ্তানিকারকরা। আলোচ্য এসব বাজারের মধ্যে শীর্ষে ছিল তুরস্ক। তুরস্কে রপ্তানি হয়েছে ৬২ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য। এসব বাজারের মধ্যে গত অর্থ বছরে শীর্ষে থাকা জাপান এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। তবে গত বছরের ৪৯ কোটি ডলার থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৫৭ কোটি ২২ লাখ ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগের বছরের আয় থেকে সামান্য বেড়ে রপ্তানি হয়েছে ৪৩ কোটি ডলারের পণ্য, নতুন বাজারের মধ্যে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া সব দেশেই আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে। অন্যদিকে প্রচলিত বাজার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় জার্মানি এবং তৃতীয় ফ্রান্স। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম বেশি বাংলাদেশী পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি বাজার হিসেবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান তারা। এ কারণে নতুন নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে তারা। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প অগ্রবর্তী প্রভাবের ফলে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার উদঘাটন করেছে।
আশির দশকের দিকে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে গার্মেন্টস শিল্পের অবদান ছিল না। বর্তমানে মোট রপ্তানি আয়ের ৭৫ গার্মেন্টস এর অবদান প্রায় ১০০টি বায়িং হাউস গার্মেন্টস সামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ে নিয়োজিত আছে। যে সব অদক্ষ মহিলা শ্রমিক হতাশায় বিনিদ্র রজনি যাপন করতো তাদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়া লেগে আছে বিশ্ব বাজারের জন্য পোশাক তৈরির কাজে। প্রায় ২৫ তেকে ৩০ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে গার্মেণ্টস শিল্পে যাদের অধিকাংশই মহিলা। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে কয়েক হাজার শিল্প উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। এসব উদ্যোক্তা যেমন ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে দক্ষ তেমনি তাদের রয়েছে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র এইসব দক্ষ উদ্যোক্তার সুনিপুণ প্রচেষ্টায় শিল্পোন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হবে। গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশে বিভিন্ন স্পিনিং, উইভ, সিটিং, ডাইং ফিনিশিং এবং প্রিন্টিং শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। এতে দেশে বহু বস্ত্র শিল্প গড়ে উঠেছে। গার্মেন্টস শিল্পের প্রভাব বাংলাদেশে প্রসাধন শিল্প প্রসারিত হয়েছে। কারণ গার্মেন্টস শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবেই প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করছে তাদের চাকরির কারণে। আমাদের দেশের পোশাক শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। ১৯৯৪-৯৫ সাল থেকে শুরু করে এ খাত গড়ে প্রতি বছর ২১.৫৩% হারে বৃদ্ধি লাভ করে চলেছে। ২০০৩-০৪অর্থ বছরে গার্মেন্টস খাত থেকে মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪০৬৪.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট রপ্তানি আয়ের ৭৪.৭৯ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মতে, পোশাক শিল্প তার আয় ৬০০০ থেকে ৭০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক শিল্পের অবদান আরো ত্বরান্বিত হবে।

লেখক : কলেজ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, মানবাধিকারকর্মী।

SOURCEdainikpurbokone
SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY