dca64e385aa08c974c62cd3f12bbedc5-IMG_3231শীতের সকাল। আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা। এর মধ্যে থেমে থেমে ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা। তুরাগপাড়ে তখন লাখো মুসল্লির ভিড়। মাইক থেকে ভেসে আসছে বয়ানের আওয়াজ। সময়ের সঙ্গে তুরাগপাড়ে মানুষের ভিড়ও বাড়ছে। মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছান। মূল মাঠ তখন পরিপূর্ণ। মানুষের স্রোত তখন উত্তরা, আবদুল্লাহপুর আর টঙ্গীর সড়কে জায়গা করে নিয়েছে। আশপাশের বাসার ছাদেও তখন অনেক মানুষের ভিড়। ইজতেমাস্থলের চারপাশের তিন-চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও লোক ধারণের ঠাঁই ছিল না। দেশি-বিদেশি নানা বয়স ও পেশার নারী-পুরুষ মোনাজাতে অংশ নিতে আসেন।

টঙ্গীতে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হওয়ার আগের চিত্রটা এমনই ছিল। লাখো মুসল্লির অপেক্ষা আখেরি মোনাজাত শুরুর। সকাল ১১টা ১ মিনিটে মোনাজাত শুরু করেন দিল্লি থেকে আসা তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ। ৩৫ মিনিট ব্যাপী এই মোনাজাতে বিশ্ব উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। দেশ-জাতি ও মানবতার কল্যাণের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়।

মাওলানা সা’দ আরবি ও উর্দু ভাষায় মোনাজাত করেন। তাঁর সঙ্গে দুহাত তুলে ‘আমিন’ ও ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি­ আকুতি জানান। মোনাজাতের একপর্যায়ে মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ বলেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে ক্ষমা করো, কেননা, তুমি ক্ষমাশীল। তুমি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হও। হে আল্লাহ, সবাইকে কবুল করে নাও। খারাপ কাজ থেকে হেফাজত করো। ইয়া আল্লাহ, আমাদের সমৃদ্ধি দাও। আমাদের সবাইকে রক্ষা করো। ইয়া আল্লাহ, তুমি আমাদের দোয়া কবুল করে নাও। আমাদের প্রকৃত ইমানদার হওয়ার তওফিক দাও। আমাদের দোয়া কবুল করো। আমাদের গুনাহ মাফ করে দাও।’ এ সময় মোনাজাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের ‘আমিন’ ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে তখন মুখর তুরাগপাড়।

প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় আসা মোট আটজন মুসল্লি মারা গেছেন। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব ২০ জানুয়ারি শুরু হবে। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। ২০১১ সাল থেকে ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বয়ান: সকাল সাড়ে আটটা থেকে মোনাজাতের আগে চলে হেদায়াতি বয়ান। বয়ানে মাওলানা সা’দ বলেন, নামাজ ছাড়া ইসলাম কল্পনা করা যায় না। আল্লাহর ভান্ডার থেকে কিছু নেওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হলো নামাজ। কিন্তু একজন মুসলমান নামাজ পড়বেন না, এটা চিন্তা করা যায় না।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন গুলশানের তাঁর বাসভবনে বসে মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া টঙ্গীতে ইজতেমাস্থলের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে মোনাজাতে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ জাহিদ আহসান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

আখেরি মোনাজাত শেষে টঙ্গী থেকে বিভিন্ন রুটে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বহু মুসল্লি কোনো যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

SOURCEprothom-alo
SHARE

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY