RMG News BD
RMG News BD

নানা সীমাবদ্ধতার পরও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে সীমান্ত হাট। গড়ে উঠেছে সম্প্রীতি, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। হাটবারের দিন সীমান্ত হাট পরিণত হয় দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মিলনমেলায়। এসবের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে আরো ৬টি নতুন সীমান্ত হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দু’দেশ। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এ হাটগুলো বসবে। এ নিয়ে দু’দেশের সীমান্তে হাটের সংখ্যা হবে ১০টি।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে দুইদিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ও ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভারতের বাণিজ্য সচিব মিজ রীতা তিওতিয়া।
নতুন ছয়টি হাট হলো- মৌলবীবাজারের জুড়ীর পশ্চিম বটুলী ও উত্তর ত্রিপুরার পালবস্তী, কমলগঞ্জের কুরমাঘাট ও কামালপুরের ধলাই, বাংলাদেশ-মেঘালয় সীমান্তর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড়ের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সায়দাবাদ ও মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড়সংলগ্ন নালিকাটা, মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলসের রিংকু ও সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের বাগান বাড়ি, ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার ভুঁইয়াপাড়া ও মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো পাহাড়ের শিববাড়ি।
এর আগে ২০১১ সালের ১৬ জুলাই কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সদর থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরে ভারতের কালাইরচর সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের বালিয়ামারী সীমান্তে সোনাভরি নদের তীরে প্রথম সীমান্ত হাট চালু করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশই সীমান্ত হাটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। যেসব সীমান্তে নতুন হাট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেসব সীমান্ত সংলগ্ন অনেক গ্রামের আশেপাশে কোনো হাট বা বাজার নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে যেতে হয় দূরের কোনো গঞ্জে বা শহরে। এ দুর্ভোগের কারণে এসব এলাকার সীমান্তে চোরাচালানের ঘটনাও বেড়েছে। কিন্তু হাট বসানো হলে চোরাচালানের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের দুর্ভোগ কমবে। এছাড়া দুই সীমান্তের লোকজনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।
২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সীমান্তে নতুন হাট স্থাপনের বিষয়ে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা। এর আগে বর্ডার হাট সংক্রান্ত সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিছু সংশোধনী  প্রস্তাবসহ নতুন খসড়া ২০১৫ সালের অক্টোবরে ভারতের কাছে পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সংশোধিত সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত হয়।
নতুন সমঝোতাটি ২৩ অক্টোবর ২০১৩ থেকে কার্যকর দেখিয়ে এর সময়সীমা করা হয়েছে পাঁচ বছর। কোনো পক্ষ এটি বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীমান্ত হাট ঘিরে সীমান্তবর্তী হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠলেও নানা সমস্যার কারণে সীমান্ত হাটের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন আইডি কার্ডের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতারা আবেদন করলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার নিয়মনীতি ছাড়া মালামাল আদান-প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাটে নির্ধারিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেকেই চাহিদামতো পণ্য কিনতে পারছে না। তবে সংশোধিত সমঝোতা অনুযায়ী এখন থেকে সীমান্ত হাটে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত সকল পণ্য, শাড়ি, হস্তশিল্পজাত পণ্য ও স্টেশনারি বিক্রি করা যাবে। এতে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে যাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া উভয় দেশের ক্রেতা বিক্রেতার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ২৫ থেকে ৫০ জনে। ক্রয়সীমা করা হয়েছে ২০০ ডলার। যা আগে ছিল ১০০ ডলার।  দুই দেশের মানুষের শুল্কমুক্তভাবে পণ্য কেনাবেচা সহজলভ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের সমঝোতা অনুযায়ী সীমান্ত হাটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা চানাচুর, চিপস, আলু, তৈরি পোশাক, মাছ, শুঁটকি, মুরগি, ডিম, সাবান, শিম, সবজি, গামছা ও তোয়ালে, কাঠের টেবিল ও চেয়ার, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহূত লোহার তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ফল, সবজি, মসলা, মরিচ, হলুদ, পান, সুপারি, আলু, মধু, বাঁশ ইত্যাদি বিক্রি করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here